দেশের আদালতে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলার জট কমাতে মধ্যস্থতাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, কার্যকর মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। দরিদ্র, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্ব পালনে আইনগত জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিকতা, ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং আস্থাভিত্তিক সমাধান তৈরির সক্ষমতা প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনজীবীরা সমঝোতায় আগ্রহী নন—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। দেশে ও বিদেশে অসংখ্য সফল মধ্যস্থতা ও সালিশে আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আইন পেশায় আলোচনাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হত্যা বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধ ছাড়া অধিকাংশ বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা গেলে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় কমবে এবং মানুষের মানসিক চাপও হ্রাস পাবে।
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শনকারী একজন নারী ও একজন পুরুষ মধ্যস্থতাকারীকে জাপানে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া তিনি জাপান সরকার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!