দেশের লিগ্যাল প্রফেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এমনভাবে এ পেশার মান উন্নত করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম আইন পেশায় আসতে আগ্রহী হয়।
এ জন্য আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বার কাউন্সিলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনা এলাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে ঢাকা ব্যাংকের নতুন সাব-ব্রাঞ্চ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য পেশাজীবীর মতো আইনজীবীদেরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ বছর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হতে পারে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা চাকরিতে প্রবেশের পর প্রশিক্ষণ পান। বিচারকদের জন্যও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। সার্টিফিকেট পাওয়ার পর একজন আইনজীবী সাধারণত সিনিয়রের সঙ্গে কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এর পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান আরও পরিশীলিত করতে বার কাউন্সিলের কার্যকর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম নিয়েও কথা
অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঋণের সব শর্ত পূরণ করার পরও কোনো উদ্যোক্তাকে সময়মতো ঋণের অর্থ ছাড় না করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অথচ ব্যাংক ওই ব্যক্তির সম্পত্তি মর্টগেজ হিসেবে রেখে দেয় এবং চেকও নেয়। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষ কোথায় যাবে—এর সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
ব্যাংকের নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা ফাইলের কার্যক্রম শুরু করেন। পরে ঋণ বা আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় মামলা হলে ওই কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকার কারণে তিনিই আইনি জটিলতায় পড়েন।
চাকরি রক্ষার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করা কর্মকর্তাদের এ ধরনের ঝুঁকি থেকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
বার কাউন্সিলে অডিটের উদ্যোগ
বার কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এর আর্থিক কার্যক্রমকে স্বচ্ছতার আওতায় আনতে অভ্যন্তরীণ অডিটের পাশাপাশি বহিরাগত অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বার কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ‘রুলস অব বিজনেস’-এর আওতায় বার কাউন্সিলের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের লিগ্যাল প্রফেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বার কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে যা কিছু করা সম্ভব, সরকার তা করবে।
তিনি বলেন, বার কাউন্সিলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বা দুর্নীতির জায়গা করার প্রয়োজন নেই। শিক্ষা, মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে এটিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যা আগামী প্রজন্মের কাছে আইন পেশায় আসার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান নেতৃত্ব তরুণ, গতিশীল ও দক্ষ। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বার কাউন্সিলকে আইন শিক্ষার্থী ও তরুণ আইনজীবীদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!