বিশ্বের প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের হস্তশিল্প রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়াতে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। একই সঙ্গে দেশীয় বাজার সম্প্রসারণেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে রপ্তানিমুখী হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান ‘তরঙ্গ’ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম ফয়জুল হক এবং তরঙ্গের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে জাকির আহমেদ খান বলেন, হস্তশিল্প বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত হলেও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ জনবলের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও ব্র্যান্ডিং সংকটের কারণে এ খাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিকশিত হয়নি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিকেএসএফ বিশেষায়িত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, যাতে হস্তশিল্পকে একটি সুসংগঠিত, রপ্তানিমুখী ও টেকসই শিল্পে রূপান্তর করা যায়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, হস্তশিল্প খাতে যুক্ত নারীদের আলাদা করে স্থানান্তরের প্রয়োজন হয় না। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় থেকেই উচ্চমানের রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরি করছেন এবং এর মাধ্যমে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনছেন। বাংলাদেশ থেকে হস্তশিল্প রপ্তানিকে শতকোটি ডলারের মাইলফলকে পৌঁছাতে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি সময়োপযোগী অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পিকেএসএফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত তরঙ্গের হস্তশিল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৩২ হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। পাট, কচুরিপানা, হোগলাপাতা, তালের আঁশ, কলাগাছের আঁশ, বাঁশ, বেত ও প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে তৈরি এসব পণ্যের বিক্রয় আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি শ্রমিকদের মজুরিতে ব্যয় হয়। ‘ন্যায্য বাণিজ্য’ নীতিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
পিকেএসএফের তথ্যমতে, দেশে হস্তশিল্পের স্থানীয় বাজারের বার্ষিক আকার প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হস্তশিল্পের বাজার ছিল আনুমানিক ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব এখনো খুবই সীমিত। ২০২২–২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে হস্তশিল্প রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের হস্তশিল্প পণ্যের প্রধান ক্রেতা।
No comments yet. Be the first to comment!