অর্থনীতি

পুঁজিবাজার: ব্যাংক খাতের উত্থানে পতন থেকে রক্ষা

আপডেট: এপ্রি ১১, ২০২৬ : ০৫:১২ এএম
পুঁজিবাজার: ব্যাংক খাতের উত্থানে পতন থেকে রক্ষা

কয়েক সপ্তাহের নিম্নমুখী ধারা কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। বিদায়ী সপ্তাহে এ খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে সামগ্রিকভাবে সূচকের পতন ঠেকানো গেছে।

সপ্তাহজুড়ে লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ২২০ পয়েন্ট। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আর শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ২২০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির। লেনদেন হয়নি ২৪টির।

সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ার। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ব্যাংক খাতের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, যা এ খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৬৬৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য বেশি। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় দশমিক ২০ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব ছিল। এতে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে। তবে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির খবরে বাজারে ইতিবাচক সাড়া পড়ে এবং সূচকে বড় উত্থান দেখা যায়। শেষ কার্যদিবসে কিছুটা সংশোধন এলেও ব্যাংক খাতের উত্থানে সামগ্রিক সূচক স্থিতিশীল থাকে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাত শীর্ষে ছিল, যা মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ দখল করে। এর পরেই ছিল প্রকৌশল খাত (১৪ দশমিক ২ শতাংশ)। ব্যাংক খাত ৯ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। বস্ত্র ও সাধারণ বীমা খাত যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে অবস্থান করে।

রিটার্নের দিক থেকে চামড়া খাত সবচেয়ে ভালো করেছে, যেখানে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া ব্যাংক, কাগজ ও মুদ্রণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সিমেন্ট খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। বিপরীতে, মিউচুয়াল ফান্ড, জীবন বীমা এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসসিএক্স সূচক বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৩৯ পয়েন্ট।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে মোট ২৪৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। লেনদেন হওয়া ২৯৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!