কেবল প্রবৃদ্ধি অর্জন নয়, বরং টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বিবৃতিতে তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এখনো জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেনি।
তিনি বলেন, আমদানি-নির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব এড়ানো সম্ভব নয়। এ বাস্তবতায় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনগণকেও সাশ্রয়ী ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো সংস্কার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সহায়তা, অভ্যন্তরীণ বন্ড বাজার উন্নয়ন এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হিসেবে তিনি মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারের কথা তুলে ধরেন।
পুঁজিবাজার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার করা হবে। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কার্যকর স্বাধীনতা দেওয়া, কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অতীতের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!