অর্থনীতি

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট: আগ ২৩, ২০২৬ : ০৫:২১ এএম ১২
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: বাণিজ্যমন্ত্রী

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার সিলেট মহানগর পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ভারতের যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন, তাঁদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে এখানে বিনিয়োগ করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার আগ্রহও তাঁরা প্রকাশ করেছেন।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় তাঁদের কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব তাঁরা এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাদেরও কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ রয়েছে। সরকার সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে যা বললেন

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি।

বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই আমদানি বেশি এবং রপ্তানি তুলনামূলক কম। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, রপ্তানি বাড়লে আমদানিও বাড়বে। রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন।

ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশটির আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের এই পরিমাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাং চান না

সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটে কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চান না। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বন্ধ করতে হবে।

এর আগে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ ও তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৮৮ একর জমিতে বিসিক শিল্পনগরী

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ সুরমার শাহপরাণ (রহ.) বাইপাসসংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত ১৮৮ একর জমির নতুন বিসিক শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, সাধারণ স্পেস ও অন্যান্য সুবিধা বাদ দিলে প্রস্তাবিত শিল্পনগরীতে প্রায় ১১০ একর জমিতে নিট প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী প্লটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, বাইপাসের বর্তমান সড়কটি ভবিষ্যতে ছয় লেনের মহাসড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। এটি ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

সিএমএসএমই খাতের অবদান ৫০ শতাংশে নিতে চায় সরকার

সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য এই অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করা।

এ সময় শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটু, সিলেট জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!