আন্তর্জাতিক

ইরানে নিহত ১,০০০ ছাড়াল, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

আপডেট: মার্চ ০৫, ২০২৬ : ০৫:২৮ এএম
ইরানে নিহত ১,০০০ ছাড়াল, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

যৌথভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো অভিযানের পঞ্চম দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে। বুধবার রাজধানী তেহরান, পবিত্র নগরী কোম, ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়।

জবাবে পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরান; মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা।

হামলার লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত এবং ৬,০০০–এর বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রায় ৩০০ শিশু ও কিশোর রয়েছে। তেহরান থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা–এর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

‘ট্রু প্রমিজ–৪’ নামে পাল্টা হামলা

আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট তাসনিম ও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ১৯তম দফার পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান। ‘ট্রু প্রমিজ–৪’ নামের এ অভিযানে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা International Atomic Energy Agency (আইএইএ) জানিয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছের দুটি ভবনে ক্ষতির চিহ্ন মিলেছে। তবে মূল স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় উপাদানে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিকিরণের ঝুঁকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

খামেনির জানাজা ও উত্তরসূরি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর জানাজা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বিশাল জনসমাগমের আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি। ইসরায়েলি ও পশ্চিমা কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি–কে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

হুমকি ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তবে তাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতৃত্ব ‘বিশৃঙ্খল অবস্থায়’ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে শক্ত অবস্থানে আছে।

এর জবাবে আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে ইরানি দূতাবাসে হামলা হলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করা হতে পারে।

মানবিক সংকট

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কয়েক দিনের সংঘাতে প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরান ছেড়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, আলোচনার পথ রুদ্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে বেসামরিক প্রাণহানি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার শঙ্কা। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনো পর্যন্ত তা কার্যকর হওয়ার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!