ইরানে চলমান সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি আংশিক বিরতিতে রয়েছে, তবুও ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক চলাকালে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানে আমাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি। আমাদের সামনে আরও অনেক কাজ বাকি। তবে এ পর্যন্ত যা অর্জন করেছি, তা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক।”
ভিডিওবার্তায় তিনি ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর কারণও ব্যাখ্যা করেন। তার দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এ অবস্থায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ত বলেই তারা আগাম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছিল, যাতে তা সহজে ধ্বংস করা না যায়। এ পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা সম্ভব ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত কয়েক দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা চলমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিন সংলাপ হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানা যায়। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।
পরবর্তীতে উত্তেজনা কমাতে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল আবারও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চুক্তি হয়নি।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে আরও বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। ইরানের হাতে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকেই সমর্থন করছে ইসরায়েল।
তার ভাষায়, “ইরান যদি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় না আসে, তবে অন্য উপায়ে এই হুমকি মোকাবিলা করা হবে।”
সূত্র: বিবিসি, এএফপি
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!