নাগরিকের কথা ডেস্ক

লিবিয়া থেকে ১৭৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে

আপডেট: এপ্রি ০১, ২০২৬ : ০৫:০০ এএম
লিবিয়া থেকে ১৭৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে

লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রচেষ্টা ও International Organization for Migration (আইওএম)-এর সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটে করে বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিদায় জানান। এ সময় তিনি সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসনের সময় অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। তারা লিবিয়ায় তাদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অনিয়মিতভাবে সেখানে যাওয়ার পর অনেকেই দালালচক্রের কাছে জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট এবং চিকিৎসাসেবার অভাবের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানান। কেউ কেউ দেশে জমি-জমা বিক্রি করে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি প্রত্যাবাসিতদের দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান এবং তাদের অভিজ্ঞতা অন্যদের মাঝে তুলে ধরে সচেতনতা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এ কারণে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ও নিরাপদ পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে প্রত্যাবাসিতদের সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!