জাতীয়

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: মার্চ ০৭, ২০২৬ : ০৫:৫২ এএম
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী তাঁর বক্তব্যের তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধি সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গড়ে ওঠে, বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নয়। তিনি বলেন, এই ইফতার আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

তারেক রহমান বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তববাদী ও টেকসই হবে। তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্ব জোরদারে উন্মুক্ত আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন উদার অর্থনৈতিক নীতির প্রতিও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, যাতে উন্নয়নের সুফল দেশের সব প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে স্বচ্ছতা ও সততা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শাসনের সব স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিনি ২০২৬–২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বক্তব্য দেন। ইফতার মাহফিলে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি মিশনের প্রতিনিধি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!