জাতীয়

তারেক রহমানকে বহন করা বিমানে ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: মার্চ ০৭, ২০২৬ : ০৫:৫৬ এএম
তারেক রহমানকে বহন করা বিমানে ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ও নিরাপত্তা বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে বিমানটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল বলে একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই উড়োজাহাজে গত ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভিভিআইপি ফ্লাইটে দেশে আনা হয়েছিল।

সম্প্রতি এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের একটি কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বিমানের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলম। সদস্যসচিব ছিলেন ব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশিক্ষণ—এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিবেদনটি বিমানে জমা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। তবে এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ বিমানের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম।

এ ছাড়া ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং সংশ্লিষ্ট জনবল সংক্রান্ত রেকর্ড উপস্থাপন করা যায়নি। তদন্ত কমিটি এটিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল না। ১৫ দিনের মধ্যে একই ধরনের ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

আকাশে ত্রুটি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি–২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় উড়োজাহাজটির ভিএফএসজি আবারও বিকল হয়ে যায়। এ ধরনের ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

বিমানের সিস্টেম সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে তদন্তের সময় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক তথ্য সময়মতো সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হয়নি বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটি বলেছে, প্রকৌশল বিভাগের ভুল ত্রুটি নির্ণয়ের কারণে এমন একটি উড়োজাহাজ ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহৃত হওয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল।

আর্থিক ক্ষতি ও দায় নির্ধারণ

বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য উড়োজাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী—হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মতে, ত্রুটি সংশোধন ও উড়োজাহাজটিকে পুনরায় ফ্লাইটে পাঠানোর ক্ষেত্রে তারা যথাযথ সতর্কতা ও যাচাই–বাছাই করেননি।

বিশেষ করে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও বিমানটিকে ফ্লাইটের জন্য ছাড়পত্র দেওয়াকে গুরুতর সিদ্ধান্তগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!