বাংলাদেশে নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনার পেছনে রাজনীতির চরিত্র বড় ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন, সেই সিদ্ধান্তও অনেক সময় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার।
জলি তালুকদার বলেন, সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে যে সদস্যরা আসেন, তাঁদের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অনেকাংশেই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সমাজে এখনো নারীদের সেই পুরোনো মানসিকতা থেকেই দেখা হয়। টাকা দিয়ে ভোট কেনা, মাস্তানি ও প্রশাসনিক কারসাজির রাজনীতির সঙ্গে অনেক নারী সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনাগুলোর পেছনে রাজনীতির চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি রাষ্ট্রের রাজনীতি কেমন হবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করে সেখানে নারীদের অবস্থান কেমন হবে।
আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে এবং দেশও নানা ক্ষেত্রে এগিয়েছে। কিন্তু প্রতিহিংসা ও হয়রানির রাজনীতি এখনো বন্ধ হয়নি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা যাদের পছন্দ করি না, তাদের সঙ্গেও যদি অন্যায় হয়, তবুও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান নেওয়া উচিত।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত, চিকিৎসক আখতার বানু, সিপিবি ও কৃষক সমিতির সদস্য লাকী আক্তার, সিপিবির ঢাকা দক্ষিণের নারী শাখার সম্পাদক মমতা চক্রবর্তী এবং বস্তিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি কুলসুম বেগমসহ অন্যরা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!