জাতীয়

পাম্পে পাম্পে ‘তেল নেই’, জ্বালানি সংকটে দিশেহারা চালকরা

আপডেট: মার্চ ০৮, ২০২৬ : ০৫:১২ এএম
পাম্পে পাম্পে ‘তেল নেই’, জ্বালানি সংকটে দিশেহারা চালকরা

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন এবং গাজীপুরের অধিকাংশ পাম্প এখন পুরোপুরি তেলশূন্য, যেখানে চালকরা তেলের খোঁজে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও ব্যর্থ হচ্ছেন।

আজ রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়ক ও জেলা পর্যায়ের পাম্পগুলোতে ‘পেট্রোল নেই’, ‘অকটেন নেই’ লেখা হাতে লেখা পোস্টার ও ব্যানার ঝুলেছে। এতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তেলের অভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েকটি মিনিবাস সারি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্প কার্যত জনশূন্য। বিক্রয়কর্মীদের বদলে নিরাপত্তাকর্মীরাই দাঁড়িয়ে আছে। অনেক পাম্পের প্রবেশপথে দড়ি বা ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে কয়েকটি পাম্পে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরের খাঁপাড়া রোড সংলগ্ন এশিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কামরুল হাসান বলেন, সকাল থেকে চারটি পাম্প ঘুরেও এক লিটার তেলও পাননি। অফিসে যাওয়া এখন সম্ভব নয়। আরিফ আহমেদ নামের অন্য চালক বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি রাস্তায় ফেলে রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তাকর্মী বলেন, কয়েকদিন ধরে মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন শুধু মানুষকে বিদায় দেওয়া হচ্ছে।

বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেল থাকলেও চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকার নির্দেশিত ‘রেশনিং’ বা সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করছে। বিমানবন্দর সংলগ্ন দুটি পাম্পে শত শত চালক হুমড়ি খেয়ে ভিড় করছেন। নিরাপত্তাকর্মীরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

রেশনিং নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন পাবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সীমা ১০ লিটার। এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০-২৫ লিটার বরাদ্দ রয়েছে। ডিজেল সরবরাহেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে—স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০-৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কনটেইনার লরি দৈনিক ২০০-২২০ লিটার।

সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!