নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানানো হয়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রাথমিকভাবে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণে ব্যবহৃত ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন চিপসংবলিত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে।
নির্বাচিত পরিবারগুলোকে জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি নগদ ভাতা দেওয়া হবে। সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা জমা হবে।
পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। বাকি অর্থ কার্ড প্রস্তুত ও অনলাইন ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় হবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!