লোকসংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে এবং দেশের বাউল সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক বর্ণাঢ্য জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের বাউলদের সামাজিক-অর্থনৈতিক জরিপ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রাম ২০২৪-২০২৫ এর আওতায় বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "বাউলরা হলো বাংলা গানের প্রাণ। আমাদের অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন এবং মানবতার চর্চায় বাউল দর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই শিল্পীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি আরও জানান, লোকশিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা এবং শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চাকে বেগবান করতে সারা দেশে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের প্রধান ও প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ। বাউল গানের সুরে মুগ্ধ হয়ে তিনি শিল্পীদের সাথে নাচে-গানে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। এছাড়াও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং প্রখ্যাত গবেষক ও জাতিসংঘের সাবেক গবেষণা পরিচালক প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও প্রকল্প সমন্বয়ক সরদার হীরক রাজা এবং বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় দেশের ৬৪টি জেলা থেকে দুই হাজারেরও বেশি বাউল শিল্পীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বাউলদের জন্য একটি জাতীয় ডাটাবেস তৈরি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ সাংস্কৃতিক নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সভাপতি ও প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শফি মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক রেজা। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাহীদুল কবীর লিটন।
সেমিনারে অনলাইনে ও সশরীরে দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ভারতের পার্বতী বাউল, অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক ড. শ্যামল চৌধুরী, এবং বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. তপন বাগচীসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল শিল্পীরা তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রাণের স্পন্দন ছড়িয়ে দেন। সবশেষে উপস্থিত অতিথি, আয়োজক এবং বাউল শিল্পীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার দপ্তর সম্পাদক শাহ সুফি রিপন চিশতি ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!