জাতীয়

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২, বেড়েছে প্রাণহানি

আপডেট: এপ্রি ১১, ২০২৬ : ০৬:০১ এএম
মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২, বেড়েছে প্রাণহানি

দেশে গত মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে। এ মাসে সারা দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু।

শনিবার সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ২২৪ জন আহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী—২০৪ জন। এছাড়া বাসযাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক ও পিকআপের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের যাত্রী ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী ৯৪ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭১টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৬২টি শহরের সড়কে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারীকে ধাক্কা দেওয়া এবং ৮২টি পেছন থেকে আঘাতের ঘটনা রয়েছে।

মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—২৪৪টি।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৫ দশমিক ৪২ জন, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে। অর্থাৎ এক মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং চালকদের প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল সড়কব্যবস্থা, বেপরোয়া গতি, চালকদের অসচেতনতা ও অদক্ষতাকে দায়ী করা হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!