জাতীয়

বাংলা বছরের শেষদিন আজ চৈত্র সংক্রান্তি ঘিরে নানা আয়োজন

আপডেট: এপ্রি ১৩, ২০২৬ : ০৫:২৮ এএম
বাংলা বছরের শেষদিন আজ চৈত্র সংক্রান্তি ঘিরে নানা আয়োজন

আজ বাংলা সনের শেষ দিন—৩০ চৈত্র ১৪৩২। চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে সারা দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হচ্ছে পুরোনো বছরকে।

ঋতুচক্রের নিয়মে পুরোনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণের এই দিনটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চৈত্রের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের মধ্যে নতুন বছরের প্রত্যাশা, নবউদ্যমে জীবন শুরু করার আকাঙ্ক্ষা এবং অতীতের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার এক মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়।

চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়, বরং নতুন সূচনার প্রতীক। গ্রামবাংলায় এ উপলক্ষে পুরোনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার প্রথা আজও প্রচলিত।

অঞ্চলভেদে দিনটি পালনের ধরনে ভিন্নতা থাকলেও মূল চেতনা একই—ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা। একসময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

খাদ্যসংস্কৃতিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। অনেকেই এদিন আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহার করেন। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার রীতি রয়েছে। আবার কিছু অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও দেখা যায়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এদিন ব্রতপালন, পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আচার পালন করেন। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের মঙ্গল কামনা করা হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহুরে জীবনে চৈত্র সংক্রান্তির আঙ্গিক কিছুটা বদলালেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া এখনও অটুট। দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা, লোকসংগীত, নৃত্য, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

এ বছরও দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লোকশিল্প প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া অর্কেস্ট্রা পরিবেশনা ও ধামাইল নৃত্যের মতো আয়োজন থাকছে দর্শকদের জন্য।

চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে বিদায় নেবে পুরোনো বছর, আর নতুন আশায় শুরু হবে নতুন বাংলা বছর।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!