চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় দুর্গত এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বর্তমানে পাঁচ জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রয়েছেন ২ হাজার ২৯৪ জন।
বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন, উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি ও ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় প্রায় ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্যোগের শুরুতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জনকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। তবে পানি নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বাড়ি ফিরেছেন।
তিনি জানান, খাগড়াছড়ির সব আশ্রয়কেন্দ্র ইতিমধ্যে খালি হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৯৫ জন, কক্সবাজারে ৩১০ জন, রাঙামাটিতে ২৯৩ জন এবং বান্দরবানে ২০০ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবীরাও এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
তিনি জানান, চট্টগ্রামে সশস্ত্র বাহিনী, পেট্রোবাংলা ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১৫ হাজার ২২৯ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩ হাজার এবং জ্বালানি বিভাগ ৪ হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে আরও ১১ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনে বহু গ্রামীণ সড়ক এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিলেও বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সড়ক মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে।
ত্রাণ সহায়তার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় প্রায় ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ জন কৃষক। তাদের জন্য বিনা মূল্যে বীজ, সার ও বিশেষ কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, বন্যার ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত সরকার দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে এবং পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!