জাতীয়

বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ধানবীজ, গবাদিপশু টিকা ও গোখাদ্য সহায়তা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

আপডেট: জুলা ১৭, ২০২৬ : ০৫:১৪ এএম
বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ধানবীজ, গবাদিপশু টিকা ও গোখাদ্য সহায়তা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে ধানবীজ, গবাদিপশুর টিকা ও গোখাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ, ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশুকে টিকা এবং ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বিতরণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতি এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় বন্যায় মৎস্য খাতে ২০০ কোটি টাকার বেশি এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যায় ব্যাপকভাবে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের পুনর্বাসনে ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ প্রয়োজন হবে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ বীজ মজুত রয়েছে। যেসব কৃষকের জমি চাষের উপযোগী হয়েছে, তাদের দ্রুত বীজ সরবরাহ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব জমি এখনো প্রস্তুত হয়নি, সেসব কৃষকের জন্য সরকারি খালি জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেখান থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বন্যার পর গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুরা রোগ প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগামীকাল থেকে শুরু হয়ে ১৫ দিনের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যায় খড় ও অন্যান্য পশুখাদ্য নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করেছে। যেসব এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো কৃষক, মৎস্যচাষি বা খামারি যাতে সরকারি সহায়তা থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!