সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিনামূল্যে গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, গাছ লাগানো শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে একটি রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে মন্ত্রী বলেন, সমাজে বিভেদ, হিংসা কিংবা অশান্তির সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়। দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান।
অনুষ্ঠানে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে তালিকাভুক্ত এক হাজার ৩০০ কৃষকের মধ্যে ১৯০ জন কৃষকের হাতে খুঁটিসহ ছয়টি করে গাছের চারা এবং এক বস্তা করে রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। পাঁচটি চারা কৃষি অফিস এবং একটি চারা স্থানীয় বিসমিল্লাহ নার্সারি সরবরাহ করে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস রুবানা তানজিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান, হাকিমপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ শামীম হোসেন চৌধুরী ও পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন বক্তব্য দেন।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার, ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী ঘোড়াঘাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাম্পাতলী এলাকায় চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করেন। পরে উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৭৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে চার্জার ফ্যান বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং উপজেলার শ্রেষ্ঠ নার্সারি হিসেবে বিসমিল্লাহ নার্সারির স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলমের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!