জাতীয়

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে চট্টগ্রামের ২১২ কিলোমিটার

আপডেট: জুলা ১৮, ২০২৬ : ০৫:৪১ এএম
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে চট্টগ্রামের ২১২ কিলোমিটার

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও ভাঙন দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুত এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে যেসব সড়ক দিয়ে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি, ত্রাণ ও জরুরি পণ্য পরিবহন করা হয়, সেগুলো মেরামতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, কোথাও স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে আপাতত অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা শেষে টেকসই পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। তিনি বন্যাকবলিত এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং কোথাও সড়ক বা সেতুর ক্ষতি হলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানোর আহ্বান জানান।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!