ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর ব্যস্ততা শুরু হয়। কেউ ছুটছেন অফিসে, কেউ দোকান খুলছেন, কেউবা রাস্তা পরিষ্কার করছেন। এরই মধ্যে মধ্য বাড্ডার একটি মার্কেটের সিঁড়িতে জড়ো হন একদল নারী। তাঁদের অপেক্ষা একটাই—কেউ এসে দিনের কাজের জন্য ডেকে নেবেন।
মধ্যবয়সী থেকে বয়স্ক—বিভিন্ন বয়সের এসব নারী প্রতিদিন সকালেই এখানে আসেন শ্রম বিক্রির আশায়। কোনো ঠিকাদার বা মহাজন এলেই কাজ পাওয়ার আশায় তাঁকে ঘিরে ধরেন। কেউ কাজ পান, কেউ খালি হাতেই ফিরে যান। আবার কাজ পেলেও অনেক সময় ৭০০ টাকার কাজ ৫০০ টাকায় করতে রাজি হতে হয় তাঁদের।
চার সন্তানের মা নাসিমাও প্রতিদিন কাজের আশায় এখানে আসেন। তাঁর স্বামী অনিয়মিতভাবে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করেন। সংসারের আয়-ব্যয়ের বড় অংশই তাই নাসিমার কাঁধে। মাসে চার হাজার টাকা বাসাভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।
নাসিমা বলেন, ‘মাইয়া হইয়া জন্মাইছি, সংসারের টেনশন একটু বেশিই নিতে হয়। আমাগো পাশে সরকারও নাই, স্বামীও নাই। শুনি সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিছে, কই, আমরা তো পাই নাই।’
একই স্থানে কাজের অপেক্ষায় ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সেলিনা বেগম। চার বছর ধরে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় চালাতে তাঁকেই শ্রম বিক্রি করতে হচ্ছে। সন্তানদের আলাদা সংসার হওয়ায় তাঁদের কাছ থেকেও তেমন সহায়তা পান না।
সেলিনা বলেন, ‘এই বয়সে এই কাজ করার কথা ছিল না। কিন্তু স্বামীর পায়ে সমস্যা হওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব আমার ওপরই। কই, স্বামীর বল যত দিন, সুখও তত দিন।’
নাসিমা কিংবা সেলিনা একা নন। রাজধানীর বিভিন্ন শ্রমবাজারে প্রতিদিন এমন অসংখ্য নারী কাজের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। তাঁদের অনেকেরই নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই, নেই নিশ্চিত আয়। দিনের শুরুটা তাই অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়েই।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!