শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনৈতিক দর্শন এখনো ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিআরএনডি)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ আয়োজন শুধু একটি বইয়ের প্রকাশনা নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা। একই সঙ্গে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে একাডেমিক গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রূপকার হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের আন্দোলনে ভূমিকারও প্রশংসা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সমন্বিত রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে গবেষণাযোগ্য তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
গ্রন্থটির ভবিষ্যৎ সংস্করণে আরও বেশি প্রাথমিক দলিল, আন্তর্জাতিক গবেষণার সূত্র, তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ভিন্নমতের একাডেমিক মূল্যায়ন যুক্ত করার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, মতের বহুমাত্রিকতা ও অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গিই গবেষণাকে সমৃদ্ধ করে।
সিআরএনডির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি বই একটি সময়কে ধারণ করলেও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখে। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য মানসুরা আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম ওবায়দুর রহমান এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!