জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে হবে।
শনিবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, নজরুলের রচিত রণসংগীত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাদৃত। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে আসছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নজরুল গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাত শেষে ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রাঙ্গণে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন ভূমিমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। এটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন নজরুলের সাহিত্য, গান, নাটক ও সংস্কৃতিচর্চার আয়োজন করতে পারবেন।
এ ছাড়া সারা বছর নিয়মিত নজরুলচর্চা চালিয়ে যেতে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী মাসের নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো এ প্রাঙ্গণেই আয়োজনের লক্ষ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’-এর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!