ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত, সেবার মান উন্নয়ন এবং বিল আদায়ের দক্ষতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পাইকারি বিতরণের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে। বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব গ্রহণে বেসরকারি খাতের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সরকারের আর্থিক চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি জানান, জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সরকার ক্লাস্টারভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহ দিতে বাড়ির মালিকদের কর ছাড় ও হোল্ডিং ট্যাক্সে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। অতীতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে চাপ কমে যায়। ভবিষ্যতে একটি স্থাপনায় সমস্যা দেখা দিলে যাতে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত না হয়, সে জন্য আরও এলএনজি আমদানি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
খুলনায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোলা-বরিশাল-খুলনা গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ না হওয়ায় কেন্দ্রটি প্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!