জাতীয়

বন্যার ক্ষতি কমাতে নির্ভুল পূর্বাভাস ও পরিকল্পিত নগরায়ণের তাগিদ

আপডেট: জুলা ২৪, ২০২৬ : ০৫:০৩ এএম
বন্যার ক্ষতি কমাতে নির্ভুল পূর্বাভাস ও পরিকল্পিত নগরায়ণের তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আরও নির্ভুল বন্যা পূর্বাভাস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য বন্যা পূর্বাভাস প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। তাই দেশের আগাম সতর্কীকরণ ও বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা জরুরি।

তিনি বলেন, আগাম পূর্বাভাস পাওয়া গেলে পানি জমার আগেই ড্রেনেজ পাম্প চালু করা, জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ জন্য আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, কার্যকর আবহাওয়া রাডার, তাৎক্ষণিক বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাজেট বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীর খাল, জলাভূমি, পুকুর ও নিচু এলাকা ভরাট হয়ে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে খাল ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার, রিটেনশন পুকুর সংরক্ষণ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইনওয়াটার হারভেস্টিং) ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন তিনি।

তাঁর মতে, সরকারি-বেসরকারি ভবনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা গেলে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপও কমবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে নদীবন্যা, নগর বন্যা, আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও নিম্নাঞ্চলের বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যা দেখা যায়। প্রতিটি ধরনের বন্যার জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক বন্যার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতাসমৃদ্ধ বায়ু পাহাড়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক দিনে প্রায় ৪১৩ মিলিমিটার এবং তিন দিনে প্রায় ৮৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা নদী ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে খাল-জলাভূমি দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে।

তিনি বলেন, অনেক ড্রেন আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করলেই হবে না, বিদ্যমান ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং কার্যকর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ভুল বন্যা পূর্বাভাস, বিজ্ঞানভিত্তিক নগর পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিস্তৃত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বন্যার ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!