জাতীয়

কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশে নেতৃত্বে এগোচ্ছেন নারীরা

আপডেট: জুলা ২৫, ২০২৬ : ০৫:০০ এএম
কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশে নেতৃত্বে এগোচ্ছেন নারীরা

বাংলাদেশ পুলিশে একসময় নারীদের ভূমিকা সীমিত ছিল প্রশাসনিক ও সহায়ক দায়িত্বে। পাঁচ দশকের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন নারী পুলিশ সদস্যরা।

একই সঙ্গে তদন্ত, অপারেশন, শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাড়ছে তাঁদের অংশগ্রহণ। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে ১৭ হাজার ৯৭০ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যা মোট জনবলের ৯ দশমিক ৭ শতাংশের কিছু বেশি। মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, এপিবিএন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রায় সব ইউনিটেই দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নারী সদস্যরা প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে অধিকাংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলায় তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিল্প পুলিশ ইউনিট-৩-এর পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নারী কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতা সহজে তুলে ধরতে পারেন। এতে তদন্তের মানও উন্নত হয়।

তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় নারী সদস্যদের পেশাগত সুযোগ বেড়েছে। নতুন প্রজন্মের নারী কর্মকর্তারা এখন জানেন, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়েও পৌঁছানো সম্ভব।

তবে নারী কর্মকর্তাদের মতে, নেতৃত্ব, অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল দায়িত্বে সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এখনও আরও কাজ বাকি। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায়ও এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিপিডব্লিউএন নারী সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সংগঠনটির অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, তদন্ত দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদার করা।

কর্মশালায় নারী কর্মকর্তাদের জন্য সাইবার অপরাধ তদন্ত, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক তদন্ত, মানসিক সুস্থতা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধবিষয়ক বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা ট্রমা-সচেতন তদন্ত ও জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ পুলিশে ১৯৭৪ সালে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব ও সুযোগের পরিধি বেড়েছে। পুলিশ নেতৃত্বের মতে, নিয়োগ বৃদ্ধি, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হলে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে নারীরা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!