জাতীয়

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর সোমবার, শুরু হচ্ছে বড় বিনিয়োগ প্রকল্প

আপডেট: জুলা ২৫, ২০২৬ : ০৫:০৭ এএম
আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর সোমবার, শুরু হচ্ছে বড় বিনিয়োগ প্রকল্প

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আগামী সোমবার। শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এ প্রকল্পকে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিসিএল) চেয়ারম্যান স্বাগত বক্তব্য দেবেন।

এ সময় প্রকল্পের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা প্রদর্শনের পাশাপাশি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকবেন।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন অনুমোদন দিয়েছে। বেজার বাস্তবায়নে এ প্রকল্পের আওতায় জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এ অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে।

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল।

সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি চালু হলে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানিমুখী শিল্পের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামকে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সিইআইজেড দেশের শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!