জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক, প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

আপডেট: জুলা ২৫, ২০২৬ : ০৫:১৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক, প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কহার পাওয়া দেশগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এর ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ৩০১ ধারার আওতায় পরিচালিত তদন্ত শেষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেছে।

২৩ জুলাই ঘোষিত এ সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায় আগে কার্যকর থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন কাঠামো কার্যকর হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রয়েছে। বাংলাদেশও এ তালিকায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে বলে সরকার আশা করছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের জন্য অতিরিক্ত শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে এসব দেশের তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতায় কিছুটা সুবিধা তৈরি হবে।

এদিকে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউএসটিআর। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০১ ধারার অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা আরও একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র উপকরণের ব্যবহার বাড়বে এবং মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সরকার।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিত করা এবং দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!