পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরকালে তিনি তুরস্কের শীর্ষ সামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দেশটির বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, শনিবার দেশে ফেরেন সেনাবাহিনী প্রধান। তুরস্ক সফরের শুরুতে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবিরে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
সফরকালে তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার, চিফ অব দ্য তুর্কিশ জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু, তুর্কি স্থলবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মেতিন তোকেল এবং ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল রিসেপ এরদিনক ইয়েতকিনের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান। এ ছাড়া তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি (এসএসবি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ।
সফরের অংশ হিসেবে তুরস্কের স্থলবাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া আসিসগার্ড, তুসাস, এমকেই, সারসিলমাজ, এসটিএম, রকেটসান, আসেলসান এবং বায়কারসহ তুরস্কের কয়েকটি শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত হন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করেন।
আইএসপিআর আশা প্রকাশ করেছে, সেনাবাহিনী প্রধানের এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!