তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়; প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনই এখন সময়ের দাবি। মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে দিনাজপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা (ডিজেএডি) আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও সময়ানুবর্তিতার চর্চা করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জনই তরুণদের কর্মসংস্থান ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। একই সঙ্গে আর্থিক সংকটের কারণে কেউ যেন চিকিৎসা বা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মফস্বল থেকে রাজধানীতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে এ ধরনের মেন্টরশিপ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে দিনাজপুর অঞ্চলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেই দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
দিনাজপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার সভাপতি ও দ্য ডেইলি অবজারভার–এর সিনিয়র রিপোর্টার মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রযুক্তি ও ভাষা দক্ষতা, বিসিএস প্রস্তুতি এবং স্টার্টআপ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!