জাতীয়

বিমানবন্দরের সেবায় সংস্কার, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বহরে ৪৭ উড়োজাহাজের লক্ষ্য

আপডেট: জুলা ৩১, ২০২৬ : ০৪:৪৬ এএম
বিমানবন্দরের সেবায় সংস্কার, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বহরে ৪৭ উড়োজাহাজের লক্ষ্য

বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়ন এবং দেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে শুধু অবকাঠামো নয়, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী জানান, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন ও বিমানবন্দরের সার্বিক সেবা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) চালু করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকির পাশাপাশি লাগেজ নিরাপত্তায় ভিজিল্যান্স টিম, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ব্যাগেজ রিকনসিলিয়েশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। লাগেজ সরবরাহের সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আফরোজা খানম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি, অতিরিক্ত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে বিমানবন্দর পরিচালনা আরও কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, এয়ারলাইনস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

জাতীয় বিমান সংস্থার বহর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস। পাশাপাশি চলতি বছর লিজের মাধ্যমে পাঁচটি উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লাভজনক আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং নতুন সম্ভাবনাময় গন্তব্য চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এটি দেশের বিমান পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

পর্যটন খাতের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, ভিসা নীতিমালা–২০২৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ই-ভিসা চালু, চিকিৎসা ও ধর্মীয় পর্যটনের জন্য নতুন ধরনের ভিসা প্রবর্তন এবং ইকো, কমিউনিটি, জলভিত্তিক ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ডিজিটাল প্রচারণা, কনটেন্ট নির্মাতা ও আন্তর্জাতিক ইনফ্লুয়েন্সারদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ সহজীকরণ, কর-সুবিধা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই বিমানবন্দরের সেবার মান, ডিজিটাল সেবা, তৃতীয় টার্মিনাল চালু এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!