জাতীয়

বিনিয়োগনির্ভর, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট: জুলা ৩১, ২০২৬ : ০৪:৫৫ এএম
বিনিয়োগনির্ভর, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থানমুখী বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘লেবার মার্কেট টাইটনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেট শকস: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’স লার্জেস্ট অনলাইন জব পোর্টাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি নির্বাচনী ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে এ কৌশলপত্র প্রকাশের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অতীতে সমন্বয়ের অভাবে অনুমোদিত অনেক প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এখন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক (প্রোগ্রামভিত্তিক) বাস্তবায়ন পদ্ধতির দিকে এগোচ্ছে।

সাকি বলেন, শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করেও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিন্ন ও বিশেষায়িত রেট শিডিউল প্রণয়নের কাজও চলছে। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটা সিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ একত্রিত করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গবেষক, শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকেরা নির্ভুল ও সহজলভ্য সরকারি তথ্য ব্যবহার করতে পারেন।

সরকার কোনোভাবেই সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করতে চায় না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতেই নীতি নির্ধারণ এবং অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে চায় সরকার।

তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় জোরদার এবং নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক অনুমোদন ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। এ কারণে আগামী ১৭ আগস্টের আগেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের অগ্রগতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!