জাতীয়

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, আগস্টের শেষ সপ্তাহে যেতে পারেন বাংলাদেশি কর্মীরা

আপডেট: জুলা ৩১, ২০২৬ : ০৫:০১ এএম
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, আগস্টের শেষ সপ্তাহে যেতে পারেন বাংলাদেশি কর্মীরা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের নীতিগত ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিক নিয়োগে সম্মতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেছেন, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু হতে পারে। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়ায় যত দ্রুত সম্ভব কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বোয়েসেল)–এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

দালাল ও অসাধু চক্র থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার হাইকমিশন এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নেবে। মালয়েশিয়া সরকার শিগগিরই কর্মী নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা প্রকাশ করবে।

মাহদী আমিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মালয়েশিয়ার কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করবে। তবে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো এজেন্সিকে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার ছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শুক্রবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!