যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু এলাকায় নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।
এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনাসংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধা যুগোপযোগী করতে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ অন্তর্ভুক্ত করারও অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!