জাতীয়

বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ড ১৯ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে বোয়েসেল

আপডেট: আগ ০৮, ২০২৬ : ০৫:২৪ এএম
বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ড ১৯ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে বোয়েসেল

বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রেকর্ডসংখ্যক ১৯ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মীকে বিদেশে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক কর্মী প্রেরণের ঘটনা।

আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থান পাওয়া কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ১৩১ জন বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বোয়েসেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ১৬ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ১৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন জর্ডানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন জর্ডানে। দেশটিতে পাঠানো হয়েছে ১৪ হাজার ৫৪৩ জন বাংলাদেশিকে।

এ ছাড়া ব্রুনাইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন, মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন, রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন, হংকংয়ে ৪ জন, কুয়েতে ৫ জন এবং ফিজিতে ৫ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।

বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, হংকং, কুয়েত, ব্রুনাই, রাশিয়া, ফিজি, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে বোয়েসেল। পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা এবং বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আস্থার কারণে বিদেশি নিয়োগকর্তাদের আগ্রহ বেড়েছে

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, গত অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে কর্মী প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বোয়েসেলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বোয়েসেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে জনশক্তি রপ্তানি করে। এই আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে বিদেশে জনশক্তি প্রেরণে বোয়েসেল আরও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারবে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে বৈদেশিক শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত করে স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে হলে বোয়েসেলকে আরও কার্যকর করার বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা

মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানান, বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলো আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজার পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় নতুন শ্রমবাজার চিহ্নিত করেও কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান, বন্ধ ও সম্ভাবনাময়—এই তিন শ্রেণিতে শ্রমবাজারগুলোকে ভাগ করে কোথায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরিতে।

চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ৪০ হাজার

বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. শওকত আলী জানান, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৪০ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই লক্ষ্য পূরণ হলে গত অর্থবছরের রেকর্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানোর নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বোয়েসেল।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) নূর আহমেদ জানান, গত জুলাই মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ১ হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান শ্রমবাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গোলিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!