প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও সদর উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জনগণের প্রয়োজন ও কল্যাণকে বিবেচনায় নিয়েই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। অতীতে পরিকল্পনাহীনভাবে বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার প্রবণতা ছিল। বর্ষা মৌসুমে প্রকল্প গ্রহণ এবং মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্প শেষ করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রকল্পের আওতায় এনে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুদের আত্মবিকাশের সুযোগ বাড়াতে খেলাধুলা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ক্রীড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষকদের জন্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে। মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রয়োজন বিবেচনায় এই কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বাজেটে সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। তাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। রাজবাড়ীর প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলার সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলার ১৮১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাট, বল, ঢোল, ডুগি, হারমোনিয়াম, ন্যাপকিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উপকরণ বিতরণ করা হয়।
সন্ধ্যায় রাজবাড়ী পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!