জাতীয়

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: আফরোজা

আপডেট: আগ ০৯, ২০২৬ : ০৫:৩৯ এএম ১২
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: আফরোজা

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (টিটিডিসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে। পর্যটনকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।

পর্যটন খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। আগামী কয়েক বছরে এ অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।

আফরোজা জানান, জাতীয় পর্যটন মাস্টার প্ল্যান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনাকে ঘিরে বৃহৎ পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন। সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে শতাধিক পেশাদার ট্যুর গাইডকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাত বর্তমানে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। হোটেল, এয়ারলাইনস, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর অপারেশন ও স্থানীয় গাইডিং সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ খাতে ২০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

দেশের পর্যটন সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩০টির বেশি জেলায় স্বীকৃত পর্যটন গন্তব্য থাকলেও এ খাতে আরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ‘আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি’—বলে তিনি পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন।

বেসরকারি খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আফরোজা খানম রিতা বলেন, সরকার নীতি প্রণয়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস ও তরুণ উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, গবেষক, বিমান খাতের অংশীজন ও গণমাধ্যমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছাড়া পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

নবনির্মিত টিটিডিসিকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি পর্যটন, হসপিটালিটি ও বিমান খাতের অংশীজনদের নিজেদের শুধু অতিথি হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে টিটিডিসি উদ্বোধনী কমিটির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য নাসের রহমান সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সভাপতি কাজী ওয়াহিদুল আলম টিটিডিসির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য দেন টিটিডিসি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও অভিজ্ঞ হোটেলিয়ার শাহিদ হামিদ এফআইএইচ।

অনুষ্ঠানে শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া হক বাংলাদেশের পর্যটন, হসপিটালিটি ও বিমান খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে সরকারি, বেসরকারি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর সম্পাদক ইনাম আহমেদ, গ্যালাক্সি গ্রুপের সভাপতি আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ এবং আইএইচজি সাউথ ওয়েস্ট এশিয়ার এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার আশ্বিনী নায়ার অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!