জাতীয়

আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট: আগ ১১, ২০২৬ : ০৫:১৫ এএম
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: কৃষিমন্ত্রী

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। পারস্পরিক কল্যাণ ও অভিন্ন স্বার্থে এ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় সরকার।

গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আসিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত আসিয়ান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত আসিয়ান ঢাকা কমিটি (এডিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন দীর্ঘদিনের। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠা এ সম্পর্ক স্থল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে আরও গভীর হয়েছে।

ভবিষ্যতে এসব সংযোগের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আসিয়ানের ১১টি সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এ সফর বাংলাদেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও আসিয়ানের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করতে বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার (এসডিপি) হওয়ার জন্য আবেদন করেছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

মৎস্য ও কৃষিতে সহযোগিতা

আসিয়ানের সঙ্গে খাতভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটের ‘বাংলাদেশ-আসিয়ান কো-অপারেশন প্রজেক্ট অন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার’ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এ ছাড়া পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে আরও কয়েকটি সহযোগিতা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ যাতে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আসিয়ান মিশনপ্রধানদের সহযোগিতা কামনা করেন কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আসিয়ান বিশ্বের অন্যতম সফল আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। বাংলাদেশ আসিয়ান পরিবারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারলে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও অর্থবহ ও বহুমাত্রিক হবে।

অনুষ্ঠানে আসিয়ান ঢাকা কমিটির চেয়ার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেটসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!