জাতীয়

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

আপডেট: আগ ১২, ২০২৬ : ০৫:৩৯ এএম
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগামী ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

এ পরিকল্পনা প্রণয়নে রাজনৈতিক দল, বিরোধী দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে এফইআরবি আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতে সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছে। জাতীয় সংসদকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনা ও মতবিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এলপিজি আমদানিতে সরকারের ভূমিকা বাড়বে

এলপিজি খাতেও সরকারের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি করলেও বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের ভূমিকা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এ লক্ষ্যে বিদ্যমান অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে সরকার নিজস্বভাবে এলপিজি আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করছে।

মাতারবাড়ীতে এলএনজি টার্মিনাল

মাতারবাড়ীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করে টার্মিনাল স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে।

তবে শুধু অর্থ থাকলেই তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য এলএনজি টার্মিনাল ও অবতরণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি

বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়েও এই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে দেশে গ্যাসের উৎপাদনও কমছে।

এ কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী সাড়ে চার বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে বিডিং রাউন্ড

এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া একটি বিদেশি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী বৃহৎ পরিসরে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কয়লা ব্যবহারে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। এসব কেন্দ্র প্রায় ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালনা করা গেলে তা আদর্শ পরিস্থিতি হবে বলে মনে করেন তিনি।

তবে আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরতার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের ভূগর্ভে উল্লেখযোগ্য কয়লার মজুত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর ব্যবহারে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। জনগণের স্বার্থ, পরিবেশ এবং দেশের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।

দক্ষ জনবল তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে কর্মকর্তাদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো হলেও এখন ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদি বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্সে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করে তাঁদের দেশের সম্পদে পরিণত করা হবে। বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিতেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা দেওয়া গেলে দেশের জনবল ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

সরকারের ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সরকারি ক্রয়নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেওয়া সব উদ্যোগে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সমন্বিত উদ্যোগ, দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান, আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!