জাতীয়

আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: আগ ১২, ২০২৬ : ০৫:৪৪ এএম
আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় দেশে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই।

বাংলাদেশের সবাই এ দেশের ‘অধিবাসী’ এবং সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্য জানানো হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসরত সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য রক্ষার কথা

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমতা আনার লক্ষ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা চালু রেখেছে। এসব ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্বীকৃতিও রয়েছে।

পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক দেশের উদাহরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব দেশে শত শত ভাষার প্রচলন থাকলেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মূলধারায় যুক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র নিয়ে বক্তব্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ (ইউএনডিআরআইপি) প্রসঙ্গেও কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে বাংলাদেশ শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল। ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল। বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ওই আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদারও নয়।

অনুষ্ঠানে সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবসহ অন্যরা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!