র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রস্তাবিত আইনটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
র্যাবের জনবল ও সম্পদ যাবে এসআরবিতে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা হবে। র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
কাঁচা মরিচ-টমেটো আমদানিতে কর কমছে
মন্ত্রিসভায় কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারদর সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব পণ্য আমদানিতে বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ করা হবে।
সরকার বলছে, মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে অনেক সময় কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম বেড়ে যায়। আমদানিতে কর কমানো হলে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর
দেশের অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে মন্ত্রিসভা। বর্তমানে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছর হিসাব করা হলেও ভবিষ্যতে তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান অর্থবছরের সময়কালে জুলাই ও আগস্টে বর্ষার মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নকাজ চলতে থাকে। এতে কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে বর্ষা শুরুর আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।
এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ ও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তী বা ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে অর্থবছর শেষ করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচি অনুযায়ী সরকারের কার্যক্রম শুরু হবে।
সিসামুক্ত বাংলাদেশে ২০৩৫ সালের লক্ষ্য
সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লিড ফ্রি বাংলাদেশ (২০২৬-২০৩৫)’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দেশে সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিকদের সিসার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের (এমআইসিএস) তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং গর্ভবতী নারীদের প্রায় ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশের রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে।
কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের তুলনায় ৫০ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা কমানো এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়, ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন
মন্ত্রিসভার বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।
মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
১৭ বৈঠকে ১০৮ সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন ৮০টি
মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৭টি মন্ত্রিসভা-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয় এবং ১০৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮০টি সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ ৭৪ শতাংশ, বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ২৮টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ৪৩টি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় সাতটি নীতি, কর্মকৌশল বা কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। একই সময়ে তিনটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বা প্রটোকলের খসড়া স্বাক্ষর বা অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদে ১০৪টি আইন পাস হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!