নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সপ্তাহ পরও ভোলার জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি ভিজিএফের চাল

আপডেট: মার্চ ০৮, ২০২৬ : ০৫:৪৪ এএম ১২
এক সপ্তাহ পরও ভোলার জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি ভিজিএফের চাল

ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় চলমান নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ভোলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত জেলেদের ভাগ্যে এখনও সরকারি ভিজিএফ চাল পৌঁছায়নি। এতে পরিবার নিয়ে তারা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, এবার গরিব জেলেদের চাল বিতরণে বিশেষ কৌশল গ্রহণের পরই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের তেতুলিয়া নদী তীরবর্তী ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মহীন জেলেরা সরকারি সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন। কেউ কেউ জাল ও নৌকা-ট্রলার মেরামত করছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে, যা ৩০ এপ্রিল রাত ১২টায় শেষ হবে। মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। জেলায় প্রায় দুই লাখ জেলে রয়েছেন, তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার নিবন্ধিত। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৪০ কেজি করে ৯০ হাজার ২শ পরিবারকে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ পেয়েছে। অনিবন্ধিত জেলেদের কোনো চাল বরাদ্দ নেই।

জেলেরা অভিযোগ করেছেন, “সরকারি অভিযান মেনে নদীতে মাছ ধরতে যাইনি। রোজগার বন্ধ, রমজান মাস চলছে, পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। অভিযানের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চাল এখনও পাইনি। দ্রুত চাল না পেলে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলব।”

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. এরশাদও জেলেদের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং দ্রুত চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “আগেরবার গরিব জেলেদের চাল বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এবার জেলেরা ঠিকমতো তাদের বরাদ্দ পাবে তা নিশ্চিত করতে বিশেষ মিটিংয়ের পরই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। ডিও লেটার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিগগিরই চাল বিতরণ শুরু হবে।”

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!