নিজস্ব প্রতিবেদক

কিরগিজস্তানে ভিসা জটিলতায় বিপাকে দেড়শাধিক বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট: এপ্রি ০৬, ২০২৬ : ০৮:৪০ এএম ১২
কিরগিজস্তানে ভিসা জটিলতায় বিপাকে দেড়শাধিক বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

কিরগিজস্তানে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া দেড়শাধিক বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী ভিসা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশে আটকে পড়েছেন। গত জুলাই ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এ সংকটের ফলে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় শিক্ষার্থীরা এবার প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কিরগিজ ভিসা পোর্টালে স্টুডেন্ট ভিসা ক্যাটাগরি “উন্মুক্ত” দেখালেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন অজ্ঞাত কারণে অনুমোদন করা হচ্ছে না। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই কিরগিজ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে ভিসা প্রদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেয়। ফলে যারা সাময়িকভাবে দেশে এসেছিলেন, তারা পুনরায় কিরগিজস্তানে ফিরতে পারছেন না।
পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত
বর্তমানে কিরগিজস্তানের বিভিন্ন স্বীকৃত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এমবিবিএস কোর্সে অধ্যয়নরত। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কিরগিজ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা একাডেমি (কেএসএমএ), আন্তর্জাতিক ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় (IEU), সালিমবেকভ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (এসএমইউ) এবং অ্যাভিসেনা ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (AIMU)।
শিক্ষার্থীরা জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ের জন্য নিজ দেশে ফিরে আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এবার দেশে ফেরার পর তারা ভিসার জন্য আবেদন করলে তা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই স্থগিত হয়ে যায়। এতে করে ইতোমধ্যে একটি পূর্ণ সেমিস্টার নষ্ট হয়েছে এবং অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের নোটিশ পেয়েছেন।
আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপ
ভিসা জটিলতার কারণে শুধু শিক্ষাজীবনই নয়, আর্থিক দিক থেকেও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। টিউশন ফি, আবাসন ব্যয় ও অন্যান্য খাতে বিপুল অর্থ আগেই পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু কিরগিজস্তানে ফিরে যেতে না পারায় সেই অর্থ কার্যত অপচয় হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার কারণে তাদের মধ্যে মানসিক চাপও বাড়ছে।
সমাধানের চেষ্টা, তবুও অচলাবস্থা
সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাস্থ কিরগিজ অনারারি কনস্যুলেট, নয়াদিল্লিস্থ কিরগিজ দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, উজবেকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, কিরগিজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কিরগিজস্তান সফর করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
চার দফা দাবি শিক্ষার্থীদের
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার্থীরা চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সমাধান না হওয়ায় এখন উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা প্রদান।
দ্বিতীয়ত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কিরগিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের ভিসা অনুমোদন পুনরায় চালু করা এবং কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি দূতাবাস বা কার্যকর কনস্যুলার সেবা চালু করা।
তৃতীয়ত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিরগিজ শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।
চতুর্থত, কিরগিজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চলমান শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভিসা অনুমোদন বা বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা।
দ্রুত সমাধানের দাবি
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হলে শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন রক্ষা পাবে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগে এই সংকট কত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!