রাজনীতি

‘মব কালচার’ দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনসিপির

আপডেট: এপ্রি ১২, ২০২৬ : ০৫:৩২ এএম
‘মব কালচার’ দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনসিপির

‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বারবার ঘোষণার পরও বাস্তবে তা প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শনিবার রাতে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রধান পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনা ‘মব সহিংসতা’র জ্বলন্ত উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হলেও তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।

এনসিপি অভিযোগ করে, সরকার একদিকে ‘মব কালচার’ দমনের কথা বললেও অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত পক্ষগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। দলটির ভাষ্য, ধর্ম অবমাননার মতো সংবেদনশীল অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার একমাত্র কর্তৃপক্ষ আদালত; কিন্তু তা উপেক্ষা করে ‘মব’ সহিংসতার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে উসকানিদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এনসিপি আরও বলে, এ ধরনের সহিংসতা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মদদ ছাড়া সম্ভব নয়। অতীতে রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নিহত পীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন আগাম সতর্কতা নেয়নি, সে প্রশ্নও তোলে দলটি।

এনসিপির দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বারবার ‘মব কালচার’ নির্মূলের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা রোধ করা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ প্রয়োগের উদাহরণ টেনে দলটি অভিযোগ করে, সরকার একদিকে মব দমনের কথা বলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে তা ব্যবহার করছে।

বিবৃতির শেষে এনসিপি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার তাগিদ দেয়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!