শ্রমিকের পরিবার থেকেও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মালিকের ছেলে মালিক হলে, রাজার ছেলে রাজা হলে, শ্রমিকের ছেলে কেন প্রধানমন্ত্রী হবে না?” তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, শ্রমিকের সন্তানের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার পথে কোনো বাধা নেই, এবং সেই সুযোগ বাস্তবে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে হলে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান সুযোগ থাকবে। শিক্ষা ও সামাজিক কাঠামো এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শ্রমিক পরিবারের সন্তানরাও নেতৃত্বে আসতে পারে।
সম্মেলনে শ্রমিকদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। অথচ তাদের ন্যায্য দাবি ও প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র ও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা আসেন, তাদের অনেকেই শ্রমিক শ্রেণি থেকে উঠে আসেন না, ফলে শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা তারা উপলব্ধি করতে পারেন না। এ কারণে শ্রমিকদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত হয় না।
শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত শ্রেণি-সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানের ভিত্তিতে শ্রমিক ও মালিকের সহাবস্থান প্রয়োজন। “শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্প বাঁচবে”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। শ্রমঘন এলাকায় মানসম্মত হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিয়ে ন্যূনতম জীবনযাপনই কষ্টকর হয়ে পড়ে, ফলে চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
অনুষ্ঠানে জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!