রাজধানী

উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, নারী-শিশুসহ দগ্ধ ১০

আপডেট: মার্চ ০৬, ২০২৬ : ০৪:৩৬ এএম
উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, নারী-শিশুসহ দগ্ধ ১০

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে উত্তরার কামারপাড়া এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

দগ্ধরা হলেন—রুবেল (৩০), তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া আক্তার (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই দুবাইপ্রবাসী এনায়েত আলী (৩২), তাঁর স্ত্রী দেলেরা খাতুন (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা আক্তার (১৯) ও রুবেল (৩৫) নামে আরও একজন স্বজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারপাড়া ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে আবুল কালামের মালিকানাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় রাইড শেয়ারিং চালক রুবেল পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাঁর চাচাতো ভাই এনায়েত সম্প্রতি দুবাই থেকে দেশে এসে পরিবারসহ গ্রাম থেকে বেড়াতে ওই বাসায় উঠেছিলেন। তাঁদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।

একই ভবনের চারতলায় থাকা সাজেদ মাতব্বর বলেন, ভোরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। নিচে নেমে দেখেন ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা লোকজন দগ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে সোনিয়া আক্তারের শরীরের প্রায় ১০০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া এনায়েত আলীর ৪৫ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, রুবেলের (৩০) ৩২ শতাংশ, শিশু রোজার ১৮ শতাংশ, জুনায়েদের ২৪ শতাংশ, দেলেরা খাতুনের ১৪ শতাংশ, রুবেলের (৩৫) ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ এবং আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। অন্যদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসার লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিজার বা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!