বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) জানিয়েছে, পোলট্রি শিল্পে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশের প্রান্তিক খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিম ও মুরগির বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় গত সাত মাসে খামারিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং অনেক খামার বন্ধের দ্বারপ্রান্তে।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএ এই তথ্য জানায়। বক্তারা জানান, পোলট্রি খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে মুরগির বাচ্চার দাম কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক দাম ৩০ টাকা হওয়া উচিত, তা বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে। এর ফলে বাজারে মুরগির দাম বাড়লেও প্রান্তিক খামারিরা লাভবান হচ্ছেন না।
খামারিদের অভিযোগ, কয়েকটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কিছু সদস্য ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তা ও ক্ষুদ্র উৎপাদক উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিএ ৬ দফা দাবি পেশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
1.প্রান্তিক খামারিদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান
2.সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ
3.পোলট্রি খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
4.সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান
5.খামারিদের উৎপাদন খরচ পূরণের সুযোগ সৃষ্টি
6.শিল্পের স্থিতিশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে ও ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিনসহ অন্যান্য নেতারা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!