রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ওষুধ এবং জটিল রোগের চিকিৎসাও এই সেবার আওতায় রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে চালু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বস্তিবাসীদের জন্য হাসপাতালটিতে আলাদা টিকিট কাউন্টার, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান জানান, উদ্বোধনের পর গত আড়াই মাসে বহির্বিভাগ থেকে ৬১০ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। এ ছাড়া ২৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও তিনজনের অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।
গত ৫ মে হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যার আইসিইউ, প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই দিন তিনটি বস্তির বাসিন্দাদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, আগে অর্থের অভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা বড় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হতো না। এখন তাঁরা বিনা মূল্যে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ওষুধ পাচ্ছেন।
ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, কয়েক মাস আগে এক চোখের ছানি অস্ত্রোপচারে তাঁর ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এবার অন্য চোখের অস্ত্রোপচার করাতে কোনো খরচ হচ্ছে না। সরকারের এই উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের জন্য বড় সহায়তা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন তাঁরা বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসা ও রোগীদের প্রতি আচরণেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ জটিল রোগের চিকিৎসাও এ কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। সেবা নিতে রোগীদের শুধু ১০ টাকার একটি টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। বাকি সব চিকিৎসা ব্যয় হাসপাতাল বহন করছে।
প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে তিনটি বস্তিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে রোগীদের হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের কর্মীরাও রোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!