রাজধানী

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার কর্মসূচি, গুরুত্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে

আপডেট: আগ ০৩, ২০২৬ : ০৫:১৬ এএম ২১
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার কর্মসূচি, গুরুত্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে

রাজধানীর দক্ষিণ অংশকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে ৩২৭ কোটি টাকার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

পরিচ্ছন্নতা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগকে ডিএসসিসির ইতিহাসের অন্যতম বড় কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে পরিচ্ছন্নতা খাতে ৩২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমে দাঁড়ায় ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, সরকারের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে শিফটভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কোন সড়কে কতজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণের পাশাপাশি কার্যক্রম তদারকিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইন চালু করেছে ডিএসসিসি। পাশাপাশি প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালন এবং বিডি ক্লিন ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) উন্নয়নের কাজও চলছে। ইতোমধ্যে ছয়টি এসটিএস আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় রূপান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে আধুনিক ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’-এ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে চালু করা হয়েছে অত্যাধুনিক কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, যা জৈব বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে ভূমিকা রাখবে।

বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পোর্টেবল পাম্প ও সাকার মেশিন মোতায়েনের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে জরুরি সাড়া দেওয়ার দল গঠন করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় আটটি নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সায়েন্স ল্যাব–নিউ মার্কেট–আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–বুয়েট–সোয়ারীঘাট করিডরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ইতোমধ্যে সরকারি অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডের জন্য সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংকে (আইডাব্লিউএম)। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে বলে আশা করছে ডিএসসিসি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্নতা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ, প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এই চারটি অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর দক্ষিণ অংশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত করা হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!